চারপাশের নানা নিদর্শন উল্লেখসহ আল্লাহর একত্ববাদের উপর প্রতিবেদন

প্রিয় ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা, তোমরা ইতোমধ্যেই ৭ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট হাতে পেয়েছো। আজ ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ৭ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট ২০২১ এর ইসলাম শিক্ষা এর  নির্ধারিত কাজ এবং নমুনা উত্তর নিয়ে হাজির হয়েছি।  সর্বপ্রথমে চলো দেখে নেয়া যাক ইসলাম শিক্ষা ৭ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টএ  কি কি থাকছে।

এই টপিকে চারপাশের নানা নিদর্শন উল্লেখসহ আল্লাহর একত্ববাদের উপর প্রতিবেদন তৈরি করা হলো। আলোচনা শেষে তাওহিদ কি, কালিমা তায়্যিবা, কালিমা শাহাদাত সম্পর্কে জানা যাবে।

চারপাশের নানা নিদর্শন উল্লেখসহ আল্লাহর একত্ববাদের উপর প্রতিবেদন


তাওহিদ আরবি শব্দ। বাংলা ভাষায় একে বলা হয় একত্ববাদ। আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করাকে তাওহিদ বা একত্ববাদ বলা হয়।
আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা। তিনি ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই। তিনিই হলেন একমাত্র ইলাহ। আল্লাহ তায়ালার প্রতি এরূপ বিশ্বাসই হলো তাওহিদ।
মাদের চারপাশে সুন্দর সুন্দর ফুল, ফল, গাছপালা, তরুলতা, পশুপাখি ইত্যাদি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল, সাগর-মহাসাগর।
আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না এমন অনেক বস্তু এবং প্রাণী ও রয়েছে। এসব কিছুই সৃষ্টি জগতের অন্তর্গত।
এগুলো সৃষ্টিকর্তা ছাড়া নিজে থেকে সৃষ্টি হয়নি। নিশ্চয়ই একজন স্রষ্টা এগুলো সৃষ্টি করেছেন। তিনি হলেন মহান আল্লাহ। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তার কোন সাহায্যকারী প্রয়োজন হয়নি।

কালিমা তায়্যিবা অর্থ হলো পবিত্র বাক্য। এটি তাওহিদ, ইমান ও ইসলামের মূলভিত্তি।

উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ বা মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসূল।
এ কালিমা স্বীকার না করলে কেউ ইসলামে প্রবেশ করতে পারে না। এ কালিমার দুটি অংশ।
প্রথম অংশে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও একত্ববাদের কথা বলা হয়েছে।
আর দ্বিতীয় অংশে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে।
তাওহীদের বিশ্বাস এর জন্য প্রয়োজন পবিত্র অন্তর। অর্থাৎ প্রথমে অন্তর থেকে সব রকমের ভুল ও ভ্রান্ত বিশ্বাস দূর করতে হবে। ‘লা-ইলাহা’ দ্বারা এটাই করা হয়।
অতঃপর ‘ইল্লাল্লাহু’ দ্বারা আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা হবে।

চারপাশের নানা নিদর্শন উল্লেখসহ আল্লাহর একত্ববাদের উপর প্রতিবেদন

কালিমা শাহাদাত হলো- সাক্ষ্য দানের বাক্য।

অর্থাৎ, এ কালিমা দ্বারা ইমানের সাক্ষ্য দেওয়া হয়। এ কালিমা উচ্চারণের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদ ও মুহাম্মদ (স.)-এর রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করা হয়।
উচ্চারণ: আশহাদু আল্ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (স.) তাঁর (আল্লাহর) বান্দা ও রাসুল।
এ কালিমাও দুটি অংশে বিভক্ত।
এর প্রথম অংশে তাওহিদ বা একত্ববাদের সাক্ষ্য দেওয়া হয়।
আর দ্বিতীয় অংশে মুহাম্মদ (স.)-এর রিসালাতের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
কালিমা শাহাদাত এর মাধ্যমে আমরা এ দুটো কাজই করতে পারি।
তা ছাড়াও মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি আমাদের বিশ্বাসের প্রমান দিতে পারি।
তাওহিদ বা আল্লাহ তা’আলার একত্ববাদে বিশ্বাস আকাইদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইসলাম ও ঈমানের মূল ভিত্তি হলো তাওহীদ।
তাওহীদে বিশ্বাস না করলে কেউ মুমিন বা মুসলিম হতে পারে না।
সকল নবী-রাসুল (আ.) তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন। সকলেই ঘোষণা করেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর তুল্য কিছুই নেই।
তাওহীদে বিশ্বাস মানুষকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করে। আর তাওহীদে বিশ্বাসীগণ আখিরাতে জান্নাত লাভ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top