দূষিত পানিকে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে বিশুদ্ধ করণ পদ্ধতি

দূষিত পানিকে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে বিশুদ্ধ করে তার সম্র্পূর্ন প্রক্রিয়াটি লিখে উপস্থাপন কর ও দূষিত পানি বিশুদ্ধ না করে পান করলে তােমার কী কী সমস্যা হতে পারে? বিশ্লেষণ কর। এই এ্যাসাইনমেন্টটি ৯ম শ্রেনী শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ম সপ্তাহে বিজ্ঞান বিষয় থেকে দেওয়া হয়েছে।
উপরের গ্লাসের পানিতে কয়েকটি দৃষক পদার্থ (যেমনঃ অদ্রবণীয় ময়লা-আবর্জনা, বালি, লবণ ইত্যাদি) মেশাও; এখন এই দূষিত পানিকে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে বিশুদ্ধ কর।
ক) পানি বিশুদ্ধকরণ সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি লিখে উপস্থাপন কর।
খ) গ্লাসে তৈরিকৃত দূষিত পানি বিশুদ্ধ না করে পান করলে তােমার কী কী সমস্যা হতে পারে? বিশ্লেষণ কর।
নির্দেশনাপাঠ্যবইয়ের সহায়তা নিতে পারে। পরীক্ষণ কাজে সাবধানতা অবলম্বন করবে। দূষিত পানি পরীক্ষণের নিমিত্তে পান করা যাবে না।

দূষিত পানিকে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে বিশুদ্ধ করণ পদ্ধতি

বিশুদ্ধ পানি পান করা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব সময় বিশুদ্ধ পানির সব জায়গায় সহজলভ্য হয়না তাই বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধকরণ এর মাধ্যমে আমাদের বিশুদ্ধ পানি পান করতে হয়। দূষিত পানি পান করা যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর ঠিক তেমনি বিশুদ্ধ পানি পান করা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়।

পানি বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়াসমূহ:

ভূপৃষ্ঠে যে পানি পাওয়া যায় তাতে নানারকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, এমনকি রোগ সৃষ্টি করতে পারে, এরূপ জীবন ধ্বংসকারী জীবণু রয়েছে । তাই ব্যবহারের আগে পানি বিশুদ্ধ করে নিতে হয়।
স্বাভাবিকভাবেই খাওয়ার জন্য অত্যন্ত বিশুদ্ধ পানি লাগলেও জমিতে সেচকাজের জন্য তত বিশুদ্ধ পানির দরকার হয় না। সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলো হলো-
১. পরিস্রাবণ, ২. ক্লোরিনেশন, ৩. ফুটন, ৪. পাতন ইত্যাদি;

নিচে এই প্রক্রিয়াগুলো বর্ণনা করা হলো:

বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধকরণ পদ্ধতি গুলো তোমাদের সুবিধার্থে আলোচনা করা হলো।

ফুটন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধকরণ

পানির ফুটন প্রক্রিয়ায় পানিকে জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব । পানিকে খুব ভালোভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে সেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসা বাড়িতে খাওয়ার জন্য এটি একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, পানি ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় ৫ থেকে ২৫ মিনিট ধরে ফোটানো হলে এরমধ্যে থাকা জীবাণু, লার্ভাসহ সবই ধ্বংস হয়ে যায়।

পরিস্রাবণ বা ফিল্টারিং প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধকরণ

পরিস্রাবণ হলো তরল আর কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। পানিতে অদ্রবণীয় ধুলা বালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা আবর্জনার কণা থাকে। এদেরকে পরিস্রাবণ করে পানি থেকে দূর করা হয়।

এটি করার জন্য পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয় , তখন পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলো বালির স্তুরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করেও পরিস্রাবণ করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের অনেকের বাসায় আমরা যেসব ফিল্টার ব্যবহার করি, সেখানে আরো উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে পরিস্রাবণ করা হয়।

ক্লোরিনেশন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধকরণ

যদি পানিতে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে তা অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সেটি করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এদের মাঝে অন্যতম হচ্ছে ক্লোরিন গ্যাস (Cl2)।
এছাড়া ব্লিচিং পাউডার [Ca(OCl)Cl] এবং আরও কিছু পদার্থ, যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলো ব্যবহার করা হয় । আমাদের দেশে বন্যার সময় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য যে ট্যাবলেট বা কিট ব্যবহার করা হয়, সেটি মূলত সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড ( NaOCl), এর মাঝে যে ক্লোরিন থাকে, সেটি পানিতে থাকা রোগ জীবাণুকে ধংস করে ফেলে।
পানির জীবাণু ধ্বংস করতে ক্লোরিন বহুল ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক। যদি পানি ফোটানো বা ফিল্টার করার ব্যবস্থা না থাকে তাহলে পানি বিশুদ্ধিকরণ ক্লোরিন ট্যাবলেট দিয়ে পানি পরিশোধন করা যেতে পারে।

পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধকরণ

পাতন: যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়, তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয় । যেমন : ঔষধ তৈরির জন্য, পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়।

এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে সেটাকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে ।

গ্লাসে তৈরিকৃত দূষিত পানি বিশুদ্ধ না করে পান করলে আমার যেসব সমস্যা হতে পারে:

দূষিত পানি পান করার ফলে সম্প্রতি ভয়াবহ হারে বেড়ে গেছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। দূষিত পানি পানেই এসব রোগের উৎপত্তি হয়। ময়লা-গন্ধযুক্ত পানি পান করলে শরীরে নানা জটিল রোগের আবির্ভাব ঘটে।
পানিতে মিশে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস প্রভৃতি জীবাণুর মাধ্যমে ডায়রিয়া রোগ ছড়ায়। কলেরাও একটি মারাত্মক রোগ। দূষিত জীবাণুযুক্ত পানি পান করলে এ রোগ হয়।
পাতলা পায়খানার সঙ্গে প্রচুর বমি কলেরার লক্ষণ। সলমনেলা টাইফি এবং প্যারাটাইফি নামক পানিবাহিত জীবাণুর কারণে যে রোগটি হয় তাকে টাইফয়েড বলে। জন্ডিস একটি পানিবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ।
এটি লিভারকে নষ্ট করে ফেলতে পারে। জন্ডিসের ফলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বেশির ভাগ পানিবাহিত রোগের লক্ষণ হলো পাতলা পায়খানা, বমি, জ্বর ও পেটব্যথা।
হেপাটাইটিস, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, জন্ডিসের মতো মারাত্মক ব্যাধির উৎস এই দূষিত পানি। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অভিমত, এ রকম দূষিত পানি দীর্ঘদিন পান করতে থাকলে আরো জটিল রোগ, এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারও হতে পারে। কিডনি রোগ, আলসার, রক্তচাপ, অ্যাজমা, যক্ষ্মা ইত্যাদি রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।
এক্ষেত্রে অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে, বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা দিতে না পারলে জনস্বাস্থ্যকে সম্পূর্ণভাবে হুমকিমুক্ত বলা যাবে না। আর তাই গ্লাসে তৈরিকৃত দূষিত পানি বিশুদ্ধ না করে পান করলে উল্লিখিত সমস্যাগুলো হতে পারে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top