বালু মিশ্রিত খাবার লবণকে খাবার উপযোগী করার বিভিন্ন ধাপের বর্ণনা চিত্রসহ প্রতিবেদন।

তোমাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটিতে রয়েছে- “বালু মিশ্রিত খাবার লবণকে খাবার উপযোগী করা সম্ভব।”- যে পদ্ধতিতে তুমি লবণকে খাবার উপযোগী করবে তার বিভিন্ন ধাপের বর্ণনা চিত্রসহ প্রতিবেদন।

নবম শ্রেণীর ৭ম সপ্তাহের রসায়ন অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর


অ্যাসাইনমেন্ট-২ :
“বালু মিশ্রিত খাবার লবণকে খাবার উপযোগী করা সম্ভব।”- যে পদ্ধতিতে তুমি লবণকে খাবার উপযোগী করবে তার বিভিন্ন ধাপের বর্ণনা চিত্রসহ প্রতিবেদন আকারে লেখ।

বালু মিশ্রিত খাবার লবণকে খাবার উপযোগী করার বিভিন্ন ধাপের বর্ণনা চিত্রসহ প্রতিবেদন।

খাদ্য লবন ও বালির মিশ্রণ হতে এর উপাদানসমূহ পৃথক করা যায় এ পরীক্ষণের দুইটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে যথাক্রমে পরিস্রাবণ ও বাষ্পীভবন।

শিরোনাম : বালু মিশ্রিত খাবার লবণকে খাবার উপযোগী করা সম্ভব।

তত্ত্ব: বালু মিশ্রিত খাবার লবণকে খাবার উপযোগী করা করার জন্য আমাদেরকে দুইটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। কারণ বালু মিশ্রিত লবণে পানি যোগ করলে লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যায়, কিন্তু বালু দ্রবীভূত হয় নাই। তাই আমাদেরকে পরিস্রাবন ও বাষ্পীভবন পদ্ধতির সাহায্যে লবণ ও বালু পৃথক করতে হবে।

পরীক্ষণটি করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি : বিকার ২ টি, ফানেল ১টি, ফিল্টার পেপার, কাচদণ্ড ১টি, ত্রিপদীস্ট্যান্ড, তারজালি, স্পিরিট ল্যাম্প, টেস্টটিউব ১টি, বেসিন।
রাসায়নিক দ্রব্য : লবণ ও সিলভার নাইট্রেট (AgNO3) দ্রবণ।

কর্মপদ্ধতি :

  • একটি কাচের বিকারে বালু মিশ্রিত লবণ নিয়ে তাতে অল্প পানি যোগ করে কাচদন্ড দিয়ে নাড়ি। ফলে লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যাবে। কিন্তু বালু পানিতে দ্রবীভূত হবে না।
  • একটি ফিল্টার পেপার পানিতে সামান্য ভিজিয়ে নিয়ে ফানেলের মধ্যে যথাযথভাবে স্থাপন করি।
  • ফানেলটিকে ২য় বিকারে স্থাপন করি।
  • ১ম বিকার থেকে বালু মিশ্রিত লবণের দ্রবণ অল্প অল্প করে ফানেলের মধ্যে ঢালি। ফলে ফিল্টার পেপার দিয়ে পরিস্রাবণের মাধ্যমে লবণ মিশ্রিত পানি ফোটায় ফোটায় ২য় বিকারে পড়তে থাকবে।
  • সম্পূর্ণ দ্রবণ পরিস্রবণ হয়ে গেলে ফানেলটিকে ২য় বিকার থেকে সরিয়ে নিই এবং ফিল্টার পেপার থেকে সামান্য পাতিত পানি দ্বারা বালু ধৌত করে আলাদা করে নিই।
  • ফিল্টার পেপারের বালুতে লবণ আছে কিনা তা জানার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করি।

লবণমুক্ত বালু নিশ্চিতকরণ :

  • ত্রিপদী স্ট্যান্ডের উপর তারজালি রাখি এবং লবণ মিশ্রিত সম্পূর্ণ পানি বিকারে নিয়ে বিকারটিকে তারজালির ওপর স্থাপন করি ও স্পিরিট ল্যাম্প এর সাহায্যে বিকারটিতে তাপ দিতে থাকি। ফলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যাবে কিন্তু লবণ বিকারে থেকে যাবে। এ অবস্থায় বিকারটিতে অল্প পরিমাণ পানি থাকতেই তাপ দেওয়া বন্ধ করি।
  • লক্ষ্য করি বিকারের তলায় কঠিন পরিস্কার লবণ জমা হয়েছে কিনা।

সাবধানতা

  1. পরিস্রাবণ করার সময় মিশ্রণকে ভালোভাবে থিতিয়ে নিয়ে উপরের পরিষ্কার দ্রবণকে প্রথমে ফিল্টার পেপারে ঢালতে হবে, যেন বেশি বালু ফিল্টার পেপারে জমা না হয়। এতে পরিস্রাবণ দ্রুত ও সহজতর হয়।
  2. মিশ্রণকে কাচ দন্ড দ্বারা ভালোভাবে নেড়ে সকল বালু ও দ্রবণ ফিল্টার পেপার এর উপর ঢালতে হবে।
  3. পরিশেষে বাষ্পীকরণ এর সময় শেষ পর্যায়ে কিছু পানি থাকতে তা প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে যাতে কাচের বাটিতে ফেটে না যায়।

সিদ্ধান্ত 
বালু মিশ্রিত খাবার লবণকে খাবার উপযোগী করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top