‘ব্যবসায় বিস্তারের ভিত্তি হলাে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন

ব্যবসায় বিস্তারের ভিত্তি হলাে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর। তোমাদের জন্য ব্যবসায় উদ্যোগ পাঠ্য বইয়ের সপ্তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট ‘ব্যবসায় বিস্তারের ভিত্তি হলাে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে দিলাম। আশা করি সপ্তম সপ্তাহের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

‘ব্যবসায় বিস্তারের ভিত্তি হলাে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন

সপ্তম সপ্তাহে নবম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ের প্রথম অধ্যায় ব্যবসায় পরিচিতি অংশের সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচির আলোকে একটি অ্যাসাইনমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে চতুর্থ সপ্তাহে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ব্যবসায় উদ্যোগ বিশ্বের প্রথম এসাইনমেন্ট দেয়া হয়েছিল।

এ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজঃ ‘ব্যবসায় বিস্তারের ভিত্তি হলাে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর।

প্রতিবেদনঃ ব্যবসায় বিস্তারের ভিত্তি হলো ব্যবসায়িক পরিবেশ

দিনে দিনে মানুষের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আওতা ও পরিধি বৃদ্ধি হচ্ছে। সেই সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের পরিধি বাড়ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ ব্যবসা এর বিস্তার বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। পরিবেশগত উন্নয়নসহ ব্যবসা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে মানুষ অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। আজকে আমরা ব্যবসায়ীক বিস্তারের ভিত্তি হলো ব্যবসায়িক পরিবেশ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন লেখার চেষ্টা করব।

সূচনাঃ অভাব পূরণের জন্য ব্যবসা এর উৎপত্তি হয়েছিল। মানুষ তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে বিস্তার করার জন্য নানাবিধ প্রযুক্তি এবং পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছে।  তার ব্যবসার পরিধি এবং বিস্তার বৃদ্ধি করার জন্য মানুষ নানা কার্যক্রম গ্রহণ করে।
ব্যবসায়িক পরিবেশ তাদের মধ্যে অন্যতম একটি। ব্যবসায় পরিবেশ সুন্দর হলে ব্যবসার বিস্তার খুব দ্রুত এবং সুন্দরভাবে  হতে পারে।
ব্যাবসায়িক পরিবেশের ধারনাঃ যেসব প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা  ব্যবসায়ী সংগঠনের গঠন,  কার্যাবলী,  উন্নতি ও অবনতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত করে সেগুলোর সমষ্টিকে ব্যবসায়িক পরিবেশ বলে। পরিবেশ দ্বারা মানুষের জীবন,  আচার-আচরণ,  শিক্ষা-সংস্কৃতি অর্থনীতি এবং ব্যবসা প্রভাবিত হয়।
ব্যবসায়িক পরিবেশ কে প্রধানত ৬ ভাগে ভাগ করা হয়েছে: ১.  প্রাকৃতিক পরিবেশ, ২.  অর্থনৈতিক পরিবেশ,  ৩.  রাজনৈতিক পরিবেশ,  ৪.  সামাজিক পরিবেশ, ৫.  আইনগত পরিবেশ, ও ৬.  প্রযুক্তিগত পরিবেশ;

ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশঃ

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যবসার বিস্তৃতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভর দেশ। এক সময় বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সারাবিশ্বে বিখ্যাত ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসিদ্ধ স্থান হিসেবে বিশেষ করে মসলিন কাপড়ের জন্য সোনারগাঁও এবং সমুদ্র বন্দর ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য চট্টগ্রামে দুটো স্থানের নাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টিতে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক উপাদান সমূহ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের অধিকাংশ উপাদানই বাংলাদেশের ব্যবসা স্থাপনের জন্য অনুকূল। দেশের প্রায় সকলেই নদীবিধৌত। এজন্যই এখানে বিভিন্ন শিল্প ও ভোগ্য পণ্যের কাঁচামাল উৎপাদন করা সম্ভব।

বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাস ফিল্ড থাকায় এখানে ব্যবসা ও শিল্প স্থাপত্য সহজ। বাংলাদেশে রয়েছে বিভিন্ন খনিজ কয়লা চুনাপাথর কঠিন শিলা ও খনিজ তেল শিল্প ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আমাদের দেশে প্রচুর সম্পদ থাকায় ব্যবসায়িক পরিবেশ আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে। অসংখ্য নদনদী বাংলাদেশের মাটি ব্যবসার জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল।

ব্যবসার বিস্তারে সামাজিক পরিবেশঃ

ব্যবসায় সমৃদ্ধি এবং ব্যবসার সফলতা বয়ে আনার জন্য সামাজিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। সমাজের বিভিন্ন ব্যবসার পরিধি ও বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। জাতি,  ধর্মীয় বিশ্বাস, ভোক্তাদের মনোভাব,  মানব সম্পদ,  শিক্ষা-সংস্কৃতি,  ঐতিহ্য,  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি,  বেশিরভাগ বাংলাদেশের ব্যবসা প্রসারের ক্ষেত্রে অনুকূল।

এদেশের মানুষ জাতিগত,  ঐতিহ্যগত এবং সাংস্কৃতিকভাবে উদার, পরিশ্রমই এবং সৃজনশীল। অতীতে জাহাজ নির্মাণ করে এবং মসলিন কাপড় উৎপাদন করে এদেশের মানুষ তাদের প্রতি এবং পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখেছিল।
সোনারগাঁও একসময় ব্যবসা, শিক্ষা, কৃষি,  সাহিত্য, সংস্কৃতি,  শিল্প, কারুশিল্পের ছিল বিশ্বসেরা। বর্তমানে জামদানি শাড়ি এবং বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে বাংলাদেশে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নির্ভরতা থেকে বের করে এবং শ্রম নির্ভর করতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ব্যবসায় বিস্তারিয়া অনেক বেশি সুবিধা পাবে।

ব্যবসায় বিস্তারে অর্থনৈতিক পরিবেশঃ

দেশে বিরাজমান কার্যকর অর্থ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা,  কৃষি ও শিল্পের অবদান,  জনগণের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ মানসিকতাও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ব্যবসায় পরিবেশ অর্থনীতি উপাদান হিসেবে কাজ করে।  বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উপাদানগুলোর কয়েকটি  বেশ মজবুত হলেও অনেকগুলোর ভিত্তি তেমন সুবিধার নয়।  এখানে চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব, গ্রামীণ জনগণের ব্যাংকিং সেবা ও ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শহরের তুলনায় কম সুবিধা,  প্রশাসনিক জটিলতা,  দালাল শ্রেণীর লোকদের হয়রানী,  দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ইত্যাদি প্রতিকূল অবস্থা কাটাতে পারলে বাংলাদেশ ব্যবসায় বিকাশে আরো দ্রুত অগ্রসর হতে পারবে।

উপসংহারঃ ব্যবসায়িক পরিবেশ ব্যবসায় বিস্তারিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি  একটি বিষয় যা আমরা উপরের আলোচনা থেকে জানতে পারলাম।  ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে খুব দ্রুত একটি দেশের বা অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো সম্ভব হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top